নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যাচাই, পরীক্ষাভীতি দূর করা এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন বিষয়ের মডেল টেস্ট শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলার তিন উপজেলার ১২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী ১১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেয়। শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক, ট্যাগ অফিসার ও শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত স্থানে পাঠানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
মডেল টেস্টের পরবর্তী পরীক্ষা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং ২৬ সেপ্টেম্বর গণিত বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবারের পরীক্ষা চলাকালে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতিম শীল বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পার্থ প্রতিম শীল বলেন, তিন বিষয়ের মডেল টেস্টের ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সেই অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে।
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ৫৬ জন করে পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষক। মডেল টেস্টের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষার্থীদের খাতার জন্য শিক্ষার্থী প্রতি চার টাকা করে দিয়ে একটি পরীক্ষা তহবিল গঠন করেছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই তহবিলের অর্থে পরীক্ষার খাতা কেনা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্রসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে বহন করা হচ্ছে।
সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগকৃত ট্যাগ অফিসার মাহবুবুল হক বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডে মেহেরপুর জেলার পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে ২০২৬ সালে জেলার শিক্ষার ফলাফলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। জিনিয়াস ল্যাবরেটরি ও সন্ধানীর মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফল করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি ও সাধারণ বিদ্যালয়গুলোর তুলনামূলক দুর্বল ফলাফল এখনো জেলার সামগ্রিক ফলাফলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত করছে।
জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে তাদের ঘাটতি রয়েছে, তা আগেভাগে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।