নিজস্ব প্রতিবেদক : মেহেদী হাসান শামীম ||
শেরপুরে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় মো. সুজন মিয়া (২৬) নামে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারার মামলায় অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য-জেরা শেষে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, রায় ঘোষণার আগে থেকেই আসামি সুজন মিয়া পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক বুলবুল আহমেদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট রোকেয়া পারভীনের সঙ্গে সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে স্ত্রীর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় রোকেয়া পারভীনকে তার শিশুকন্যাসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এ ঘটনায় রোকেয়া পারভীন ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল শেরপুরের আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন।
আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশে আসামি সুজন মিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার রায়ে তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিতে সুজন মিয়ার ঠিকানা জামালপুর সদর উপজেলার হানুমানেরচর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত বলে জানা গেছে।