নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় আলোকিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
তিনি বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে সারা দেশে নজরুলচর্চা নতুন মাত্রা পেয়েছে। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিকারুননিসা নূনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে মেধাবী, সৃজনশীল ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরিতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী নজরুলের বিখ্যাত কবিতা ‘বল বীর—চির উন্নত মম শির’ আবৃত্তি করে কবিকে বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত রচনার মধ্য দিয়ে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে আরবি, ফারসি, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষার শব্দের সৃজনশীল ব্যবহার বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।
এ সময় ‘গাহি সাম্যের গান’ থেকে কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের চেতনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। ‘এক হাতে মোর বাঁশের বাঁশরি, আরেক হাতে রণতূর্য’ পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে তিনি নজরুলের প্রেম ও দ্রোহের যুগল সত্তার কথাও তুলে ধরেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নজরুল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউল গান এবং হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের চর্চা ও প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষায়, পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মিলনেই গড়ে উঠেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
সংস্কৃতির বিকাশে সংস্কৃতি, পর্যটন, তথ্য ও পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের উদ্দেশে নারীশক্তির জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার জনগণের কল্যাণে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন মন্ত্রী এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।