নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ইইউর দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বহুমুখী এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইইউকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বহুপাক্ষিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইইউর গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন এবং সংস্কার কার্যক্রমে তাদের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাতে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। অধিবেশনের বিভিন্ন পার্শ্ব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান তারা।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা দ্রুত শুরু করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
এ ছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, বিমান চলাচল খাত ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার অগ্রাধিকারসূচিতে রাখার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ।
সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ ও ইইউর প্রতিনিধিরা।