নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, ‘আমরা কেউ চিরদিন থাকব না, এ দেশ থাকবে, এ দেশের মানুষ থাকবে। তাই আগামী ৫০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) ‘The First Open Heart Surgery Day’ ও ‘Cardiovascular Surgical Conference of NICVD-2026’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি।
দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার আধুনিকায়নে যেসব প্রথিতযশা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ নিরলস অবদান রেখেছেন, তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে দক্ষ সার্জন গড়ে তুলতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশের কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জনসংখ্যার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভাল্ব ও স্টেন্টের (রিং) ওপর কর মওকুফ করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হওয়ায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমেছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব ও জনকল্যাণে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হৃদরোগের প্রায় সব ধরনের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিগত সময়ের অনিয়ম দূর করে বর্তমান সরকার জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা পর্বের আগে মন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবনের হাত ধরে বিশ্বে ওপেন হার্ট সার্জারির সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ‘The First Open Heart Surgery Day’ উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।