নিজস্ব প্রতিবেদক : মেহেদী হাসান শামীম ||
শেরপুরের গারো পাহাড় এলাকায় পর্যটকদের আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পর্যটন মোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মোটেল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ফররুখ আহম্মদ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকায় সরকারি প্রায় দুই একর জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় প্রস্তাবিত জায়গার অবস্থান, আয়তন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন অতিরিক্ত সচিব।
পরিদর্শন শেষে তিনি মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য শেরপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশকেন্দ্র, নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কসহ সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। এসব এলাকায় প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ঘুরতে আসেন।
তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ অবস্থায় রাংটিয়া এলাকায় পর্যটন মোটেল নির্মাণ করা হলে পর্যটকদের আবাসন সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মোটেল নির্মাণ হলে গারো পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অন্যান্য সেবাখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশকেন্দ্রসহ শেরপুরের গারো পাহাড়ের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে পাহাড়ঘেরা সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের পর্যটন খাত নতুন গতি পাবে।