নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
শেরপুরের শ্রীবরদীতে পাচারের সময় ২৫ বস্তা সরকারি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সার বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ঝগড়ারচর উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেলুয়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগের আবেদনকারী মুরাদুজ্জামানের জামাতা সারোয়ার জাহান অনিকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১৫ ও ১০ বস্তা করে মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ক্রেতাদের দাবি, তারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাজ এলাকার কৃষক। স্থানীয় ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার না পেয়ে তারা শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর বাজারে সার কিনতে আসেন। পরে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার কিনে বটবটি গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন।
ক্রেতাদের ভাষ্য, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তারা ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে সার কিনেছেন।
পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শ্রীবরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব-উল-আহসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ এবং শ্রীবরদী থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে জব্দ করা ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ভেলুয়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগের আবেদনকারীদের মধ্যে মুরাদুজ্জামান ও তাঁর জামাতা সারোয়ার জাহান অনিক রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। একই পরিবারের শ্বশুর-জামাই দুজনের ডিলারশিপের আবেদন এবং এরই মধ্যে সরকারি সার বিক্রির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, ডিলারশিপ পাওয়ার আগেই যদি সরকারি সার বিক্রির মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ডিলারশিপ পেলে এর প্রভাব কী হতে পারে—তা নিয়ে প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন।
তবে সার বিক্রির অভিযোগ এবং ডিলার নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।