নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
জামালপুর শহরে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চোরচক্রের তিন সদস্য এবং চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে দুজন রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় আনোয়ার হোসেনের ভবনের তৃতীয় তলায় বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে নগদ এক লাখ টাকা এবং প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরিতে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশালকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকারের ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩ দশমিক ১৯ গ্রাম স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রুপার অলংকার জব্দ করা হয়েছে।
আগের গ্রেপ্তার পাঁচজন চুরিতে জড়িত নন:
পিবিআই মামলার তদন্তের শুরুতে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক সুমন মিয়া (৩৯), সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯) এবং চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক রূপম কুমার সরকার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে কললিস্ট যাচাই করে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ওই পাঁচজন চুরির ঘটনায় জড়িত নন।