নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
ইতালি ও বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও কৌশলগতভাবে বিস্তৃত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সূচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসীদের জন্য ইতালি বরাবরই উদারতা দেখিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম বড় গন্তব্য। তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ইতালির বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
স্পিকার আরও বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ ও আইনসম্মত অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইতালির সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে প্রতি বছর ইতালি সরকারের আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রেও ইতালিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার।
তিনি বলেন, ইতালির বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি ও যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়।
সাক্ষাতে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশ ইতালির পুরোনো বন্ধু। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ইতালি সরকার সবসময় দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ও ইতালির সংসদের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন এবং দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি আরও জোরদারে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও সিরামিকপণ্য প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইতালিতে রপ্তানি হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মজুত তেল ও গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ইতালির বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্পিকার।
সাক্ষাতে ইতালির দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।