নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
আসিয়ান কাপ ফুটবলে দেখা মিলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন এক চেহারার। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া নতুন এই টুর্নামেন্টে অভিষেক হবে বাংলাদেশের। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়বে জামাল ভূঁইয়ার দল। এরই মধ্যে জাতীয় দল পৌঁছেছে জাকার্তায়। সেখানে অনুশীলনও শুরু করেছেন ফুটবলাররা।
১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। দীর্ঘ ৫৩ বছরের পথচলায় এবারই যেন জাতীয় দলের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রবাসী ফুটবলারদের ব্যাপক অংশগ্রহণে আসিয়ান কাপে নতুন এক বাংলাদেশেরই দেখা মিলবে।
জামাল ভূঁইয়া ছিলেন বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা প্রথম প্রবাসী ফুটবলার। এরপর জাতীয় দলে যোগ দেন তারিক কাজী, এলিটা কিংসলে ও কাজিম শাহ। ২০২৫ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরীর অভিষেক বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আগ্রহ তৈরি করে।
এরপর কানাডাপ্রবাসী সামিত সোম, ইতালিপ্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জায়ান আহমেদও জাতীয় দলে নিয়মিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের অন্তর্ভুক্তিতে এখনো কোনো ট্রফি আসেনি, তবে জাতীয় দলের শক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।
শুধু জাতীয় দল নয়, বয়সভিত্তিক দলেও এখন প্রবাসী ফুটবলারদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জামাল, তারিক ও কাজিম প্রবাসী হলেও ঘরোয়া ফুটবলে দীর্ঘদিন খেলার কারণে তাঁরা অনেকটাই পরিচিত ‘লোকাল’ মুখ হয়ে উঠেছেন। যদিও তারিক গত বছর থেকে ভুটান লিগে খেলছেন। আর এবার চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি কাজিম শাহর।
তবে আসিয়ান কাপের বর্তমান স্কোয়াডে প্রবাসীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে খেলা হামজা, সামিত, ফাহামিদুল ও জায়ানের সঙ্গে এবার জাতীয় দলে যোগ হতে পারে আরও তিন নতুন প্রবাসী ফুটবলারের—জিদান আলেকজান্ডার, ফারহান আলী ও সুকি ইতোফুয়া। অর্থাৎ ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত না খেলা সাত প্রবাসী ফুটবলার এবার আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন।
সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারত। তবে ভিসা জটিলতা এবং পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ থমাস ডুলি সন্তুষ্ট না হওয়ায় কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা পাননি।
জামাল ও তারিককেও প্রবাসী হিসেবে বিবেচনা করলে আসিয়ান কাপের বাংলাদেশ দলে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। ফলে জাতীয় দলের একাদশে স্থানীয় ফুটবলারদের জায়গা পাওয়ার লড়াইটাও এবার কঠিন হতে পারে।
গোলরক্ষকের জায়গায় একজন স্থানীয় ফুটবলারের সুযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্য পজিশনে আরেকজন স্থানীয় কে সুযোগ পাবেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকেও সব ম্যাচে শুরু থেকে খেলানো হচ্ছে না; অনেক সময় তাঁকে বদলি হিসেবে নামানো হচ্ছে। অন্যদিকে তারিক কাজীর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
হামজা, সামিত ও জায়ানের জায়গাও অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ফাহামিদুল ইসলামকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও নতুন তিন প্রবাসী ফুটবলারেরও একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে রাকিবের খেলার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আসিয়ান কাপে পারফরম্যান্স ভালো হলে নতুন তিন প্রবাসী ফুটবলার আগামী নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারেন। তখন জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলারের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সে ক্ষেত্রে ঘরের মাঠে সাফেও কি স্থানীয় ফুটবলারদের জায়গা আরও সংকুচিত হবে?
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার রুম্মন ওয়ালি বিন সাব্বির মনে করেন, প্রবাসী ফুটবলারদের অংশগ্রহণে জাতীয় দল উপকৃত হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি স্থানীয় ফুটবলারদের বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা খেলায় উপকার আসছে। তাই বলে লোকালদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না। ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশিরা খেলছেন। আবার সাফে দেশের ফুটবলারদের লোকাল হিসেবে খেলানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো দেশে নতুন ফুটবলারের দেখাই মিলবে না। তা কি আমাদের জন্য মঙ্গল ডেকে আনবে?’
আসিয়ান কাপ তাই শুধু বাংলাদেশের নতুন একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অভিষেকের গল্প নয়; একই সঙ্গে এটি জাতীয় ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং স্থানীয় ফুটবলারদের সুযোগ নিয়ে নতুন এক বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি।