নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ১১ রবিউস সানি। মুসলিম বিশ্বের সুফি সাধনা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে গাউসে পাক, গাউসুল আজম ও ‘বড় পীর’ হিসেবে পরিচিত হযরত শেখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, ওয়াজ-আলোচনা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন, সাধনা, আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং ইসলামের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর অনুসারীদের কাছে তিনি পীরানে পীর, দস্তগীর ও গাউসে আজম হিসেবে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়।
সুফি ঐতিহ্যে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শিক্ষা আত্মশুদ্ধি, নফসের সংশোধন, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, মানবসেবা এবং দ্বীনের পথে অবিচল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন। তাঁর জীবন ও সাধনা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে আত্মসংযম, বিনয়, মানবিকতা ও নৈতিকতার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ছিলেন আল্লাহর একজন প্রিয় ওলি। তাঁর আধ্যাত্মিক শিক্ষায় মানুষকে অন্যায়, অহংকার, হিংসা ও পাপাচার পরিহার করে সত্য, ন্যায়, মানবতা ও ইবাদতের পথে চলার আহ্বান জানানো হয়।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ, জিকির-আজকার ও দোয়ার পাশাপাশি অসহায়-দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পবিত্র দিনে সবার প্রত্যাশা—আল্লাহ তায়ালা যেন মানুষের অন্তরকে ঈমানের আলোয় আলোকিত করেন, নফস সংশোধনের তাওফিক দান করেন এবং সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার শক্তি দেন।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মোবারক।