নিজস্ব প্রতিবেদক : মেহেদী হাসান শামীম ||
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী শেরপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সকালে শেরপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে পৌঁছালে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
পরে শেরপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন ডিআইজি।
প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বিশেষ এই প্রশিক্ষণ পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের আহ্বান জানান তিনি।
এরপর ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় পুলিশ হাসপাতালের সামনে একটি বৃক্ষচারা রোপণ করেন রেঞ্জ ডিআইজি।
পরে পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কল্যাণ সভা। পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের নানা সমস্যা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় ডিআইজির কাছে তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেন।
সভায় পিআরএলগামী শেরপুর জেলা পুলিশের সাত সদস্যকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আগস্ট ২০২৬ মাসে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান ও চৌকস দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে প্রথম হয়েছেন কানাই লাল চক্রবর্তী (ঝিনাইগাতী), দ্বিতীয় মো. আব্দুল খালেক (নকলা) এবং তৃতীয় আরিফ আহমেদ (শেরপুর সদর)।
শ্রেষ্ঠ এএসআই হয়েছেন মোহাম্মদ সোনা মিয়া (নকলা)। দ্বিতীয় মো. মাহফুজুর রহমান (শেরপুর সদর) এবং তৃতীয় মো. জাহাঙ্গীর আলম (নালিতাবাড়ী)।
শ্রেষ্ঠ গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলকারী কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম হয়েছেন এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম (নালিতাবাড়ী), দ্বিতীয় এএসআই মোহাম্মদ সোনা মিয়া (নকলা) এবং তৃতীয় এএসআই মো. মাহফুজুর রহমান (শেরপুর সদর)।
শ্রেষ্ঠ মোবাইল উদ্ধারকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন শেরপুর সদর থানার এএসআই মো. নজরুল ইসলাম।
শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক কর্মকর্তা হয়েছেন শেরপুর সদর ট্রাফিকের টিএসআই নূর আলমগীর খান।
এ ছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন কনস্টেবল মইনুদ্দিন, কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান ও কনস্টেবল আল-মামুন।
কল্যাণ সভা শেষে আকস্মিকভাবে শেরপুর সদর থানা পরিদর্শনে যান রেঞ্জ ডিআইজি।
এ সময় থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। সেবাপ্রার্থীরা কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করার সময় জনগণকে দ্রুত ও জনবান্ধব সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিআইজি। পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
দিনের শেষ পর্যায়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সব থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ডিআইজি।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসান-আল-আলমসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত), পুলিশ সদস্য ও সিভিল স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।