নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
শরতের নীল আকাশ, নদীর দুই তীরে দুলছে সাদা কাশফুল। প্রকৃতিতে জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। সেই উৎসবকে ঘিরে শেরপুরের পূজামণ্ডপগুলোতেও শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
জেলার সদর উপজেলার পালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কেউ বাঁশ দিয়ে কাঠামো তৈরি করছেন, কেউ খড় বাঁধছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে ব্যস্ত তারা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় প্রায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন জেলার হাতে গোনা কয়েকজন কারিগর। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মোট আটজন কারিগর।
প্রতিমা কারিগররা জানান, প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর তাতে মাটির প্রলেপ দিয়ে ধীরে ধীরে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য দেব-দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। মাটির কাজ শেষ হলে শুরু হবে রং ও রূপসজ্জার কাজ। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে তখনও ব্যস্ত থাকতে হবে কারিগরদের।
এক প্রতিমা কারিগর বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়ে আমরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এ বছর সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রতিমার দাম তেমন বাড়েনি। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি।’
সহযোগী কারিগররা বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। বাঁশ, খড় ও মাটি দিয়ে নিখুঁতভাবে প্রতিমার কাঠামো ও অবয়ব তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রং ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শেরপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব সুব্রত কুমার দে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এ বছর শেরপুর জেলায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় পূজা-অর্চনার খরচও বেড়েছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, পূজা উদযাপনের জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে যে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়, তা যেন বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুটা বাড়ানো হয়।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জিতেন মজুমদার বলেন, ‘এ বছর জেলায় ১৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। তাদের পাশাপাশি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও যেন প্রতিটি মণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে শরতের আবহ আর মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততায় শেরপুরে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে মাটির প্রতিমা পাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। অপেক্ষা এখন রং, সাজসজ্জা আর বোধনের।