নিজস্ব প্রতিবেদক : মেহেদী হাসান শামীম ||
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ৪০০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কেটে ফেলা গাছগুলোর অধিকাংশই ছিল ফলবান। এ ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকায়। এ ঘটনায় মো. সোলায়মান মোল্লাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আরাফ আল বেহেস্তী হক ওরফে রিংকু। অভিযোগের পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধান অভিযুক্ত সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে রিংকুর কলাবাগানে থাকা প্রায় ৪০০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেছিল। একই সঙ্গে কলাবাগানে সাথি ফসল হিসেবে লাগানো বেগুন, মরিচ, লাউ, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজির গাছ ও চারা নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
রিংকুর অভিযোগ, গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
এ ঘটনায় সোলায়মান মোল্লা, তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স, ঝাবরু, কালু মিয়া, মুসলিম, শুটকু মিয়া ও খোকা মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সোলায়মান মোল্লা অতীতে ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো, মাদক ব্যবসা এবং প্রতিপক্ষকে মারধরের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোলায়মান মোল্লা।
সোলায়মান মোল্লা বলেন, জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। তবে কলাগাছ কাটার ঘটনায় তিনি জড়িত নন।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।