নিজস্ব প্রতিবেদক : মেহেদী হাসান শামীম ||
‘একসাথে আরও শক্তিশালী- জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের মতো শেরপুরেও বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে থেকে র্যালিটি বের করা হয়। পরে র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কৃত্রিম প্রজননের উপপরিচালক ডা. রুকুনুজ্জামান পলাশ, জেলা ট্রেনিং অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলুল হক এবং শেরপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কান্তি দও।
বক্তারা বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। রোগটির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর চিকিৎসার কার্যকর সুযোগ থাকে না। তাই জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
তারা আরও বলেন, কুকুর, বিড়াল, শেয়াল কিংবা বাদুড়ের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্কের ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে পোষা কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা জানান, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তবে সময়মতো টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণে এখনো মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পোষা প্রাণীর টিকাদান, প্রাণীর আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা এবং আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভেটেরিনারি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা, এআই টেকনিশিয়ান এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটির মূল উদ্দেশ্য ছিল জলাতঙ্ক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগকে আরও জোরদার করা।