নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
পোশাক মানুষের লজ্জাশীলতা, শালীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ঢেকে রাখা ফরজ। তবে অনেক পুরুষ এ বিষয়ে অসচেতন থাকেন। বিশেষ করে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ঢেকে রাখার বিষয়টি শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হিসেবে বিবেচিত।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদমের সন্তান-সন্ততি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, যা তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা আবৃত করে এবং তা শোভাস্বরূপ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক, সেটাই সর্বোত্তম।’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত: ২৬)
পুরুষের সতরের সীমা কতটুকু?
ফিকহে হানাফির প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, একজন বালেগ পুরুষের সতরের আবশ্যকীয় সীমা হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত—হাঁটুসহ। এই অংশ অন্যের সামনে ঢেকে রাখা ফরজ।
অনেকে মনে করেন, শুধু গোপন অঙ্গ ঢেকে রাখলেই পুরুষের পর্দা সম্পন্ন হয়। কিন্তু হাদিসে ঊরুকেও সতরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হজরত জারহাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে ঊরু অনাবৃত অবস্থায় দেখে বলেন, ‘তুমি কি জানো না যে, ঊরু গোপন অঙ্গ?’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪০১৪)
আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পুরুষের সতর।’ (জামিউল মাসানিদ ও সুনানে দারাকুতনী)
শুধু নারীর জন্য নয়:
পর্দা ও শালীনতার বিষয়টি শুধু নারীদের জন্য—এমন ধারণা ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক নয়। পবিত্র কোরআনে দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের বিষয়ে প্রথমে মুমিন পুরুষদেরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।।
আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত: ৩০)
পোশাকে সতর্কতা জরুরি।
সতর প্রকাশ হয়ে যায়—এমন পোশাক পরা থেকে মুসলিম পুরুষদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে খেলাধুলা, শরীরচর্চা বা দৈনন্দিন চলাফেরার সময় এমন পোশাক পরা প্রয়োজন, যাতে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ অনাবৃত না হয়।
ইসলামে লজ্জাশীলতা ও শালীনতাকে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই নিজের পোশাকের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার-পরিজনকেও এ বিষয়ে সচেতন করা উচিত।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর বিধান মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।