নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
দেশে নতুন করে কোনো ‘যৌথ অভিযান’-এর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রত্যাহার নয়, যথাযথ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলাও করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’
তেজগাঁওয়ে হচ্ছে আনসারের নতুন সদর দপ্তর:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি পরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে যাচ্ছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য তেজগাঁও এলাকায় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে।
বর্তমানে খিলগাঁওয়ে অপরিসর জায়গায় আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে স্থান সংকুলান ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে নতুন জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি।
নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে আনসার ও ভিডিপিকে দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডরমেটরি ও ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আনসারের অবদানের প্রশংসা:
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই:
ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরছে।
রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের কারণে যাতে দীর্ঘস্থায়ী যানজট তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।