নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার নির্ঝর কমিউনিটি সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকুর বড় ভাই মো. সারওয়ার জাহান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী আরাফ আল বেহেস্তী হক রিংকু, তাঁর স্ত্রী তাওহীদা লীম, বড় বোন সেহেলী পারভীন ও শাহনেওয়াজ পারভীন, বোনজামাই মাসুদ আহমদ লেনিন, স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে সারওয়ার জাহান অভিযোগ করেন, শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের পশ্চিম বিলভরট এলাকার সোলায়মান মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চাপ সৃষ্টি, মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো, মারধর ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন সারওয়ার জাহান।
তিনি বলেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে সোলায়মান মোল্লা, তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্সসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রিংকুর কলাবাগানে হামলা চালান। এ সময় রামদা, কিরিচ, রড, লোহার পাইপ ও বর্শাসহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে প্রায় ৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেছিল। পাশাপাশি বেগুন, মরিচ, লাউ ও পুঁইশাকসহ সাথি ফসলের চারাও নষ্ট করা হয়।
সারওয়ার জাহানের অভিযোগ, চাঁদার টাকা দিতে না পারায় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হামলার সময় বাগান পাহারায় থাকা রিংকু, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রিংকু, তাঁর নয় বছর বয়সী সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অপহরণ, হত্যা ও গুমের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি বাড়ির মালামাল ও প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু লুটের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় রিংকু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের বৃদ্ধা মা একাই বাড়িতে অবস্থান করছেন।
সারওয়ার জাহান বলেন, ঘটনার পর প্রথমে শ্রীবরদী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁর নির্দেশে শ্রীবরদী থানা অভিযোগটি আমলে নেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এ ঘটনায় সোলায়মান মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও খোকা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পরদিন সকালে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। পরে সোলায়মান মোল্লাসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এ ঘটনায় একটি প্রভাবশালী মহল অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি কলাগাছ কেটে ফেলা, হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে।