নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পথে অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ।
২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী সিইপিএ দ্রুত স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে অনুপ্রাণিত করছে। এ সময় নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ সভা ও উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।
উন্নয়ন সহযোগিতার প্রসঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে দেশটির অব্যাহত সমর্থন কামনা করে বাংলাদেশ। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ অব্যাহত রাখা ও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আয়োজিত বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগে প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রশংসা করা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।
বৈঠকগুলোতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।