নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
বিশেষ বিসিএসে চিকিৎসকদের জন্য ক্যাডার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সদ্য এমবিবিএস পাস করা কিংবা ইন্টার্নশিপরত চিকিৎসকদের জন্য এটি হতে পারে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পদে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। হাতে সময় কম হলেও পরিকল্পিত প্রস্তুতি, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও কৌশলী পরীক্ষার মাধ্যমে সাফল্য পাওয়া সম্ভব।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রথমেই শতভাগ নিশ্চিত প্রশ্নগুলো চিহ্নিত করে উত্তর করতে হবে। শুরুতেই গণিত নিয়ে বসে না থেকে যেসব প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিতভাবে জানা, সেগুলো আগে করা ভালো। কোনো অঙ্ক সহজে না মিললে তার পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা উচিত নয়। কারণ প্রশ্নে ভুল থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরীক্ষার শেষ দিকে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে উত্তরপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশ্নের উত্তর করা হয়েছে কি না, সেটিও হিসাব করে দেখা জরুরি। মোটামুটি ১১০ বা তার বেশি নম্বরকে নিরাপদ অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে যেসব প্রশ্নের উত্তর ৫০-৫০ সম্ভাবনার, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও সম্ভাব্য লাভের হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একেবারেই জানা নেই—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কারণ একটি ভুল উত্তরের কারণে নম্বর কাটা যেতে পারে। তাই শুধু বেশি প্রশ্নের উত্তর করার চেয়ে সঠিক প্রশ্ন বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু প্রিলি পাস নয়
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোনোভাবে পাস করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। কারণ লিখিত পরীক্ষার নম্বর পরবর্তী সময়ে ভাইভার নম্বরের সঙ্গে যোগ হয়ে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় যাঁরা ভালো করবেন, ক্যাডার হওয়ার প্রতিযোগিতায় তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।
তাই শুরু থেকেই লিখিত পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রিলিমিনারিতে ভালো করার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার মতো প্রস্তুতিই একজন প্রার্থীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে দিতে পারে।
ভাইভায় জ্ঞান, ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপন
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্যাডার সার্ভিসে কর্মরত সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানা বেশ কাজে আসতে পারে।
একজন মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়, বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়—ভাইভায় এমন প্রশ্ন আসতে পারে। ইন্টার্নশিপ শেষ হয়েছে কি না, বর্তমানে কোথায় ইন্টার্নশিপ চলছে কিংবা ইন্টার্নশিপের সময় কী ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেসব নিয়েও প্রশ্ন হতে পারে।
যাঁরা এফসিপিএস বা অন্য কোনো প্রশিক্ষণে রয়েছেন, তাঁদের নিজস্ব বিষয় সম্পর্কেও প্রশ্ন করা স্বাভাবিক। পাশাপাশি ফরেনসিক মেডিসিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মেডিকোলিগ্যাল বিষয় সম্পর্কেও মৌলিক ধারণা থাকা জরুরি।
বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কেও প্রার্থীদের ধারণা রাখতে হবে। তবে কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অনুমান করে ভুল উত্তর দেওয়ার চেয়ে বিনয়ের সঙ্গে ‘সরি’ বলা ভালো।
ভাইভায় শুধু জ্ঞান নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপন দক্ষতা ও আদবকায়দাও গুরুত্বপূর্ণ। হাসিমুখে এবং স্মার্টভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারলে ভালো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
সময় কম, সুযোগ বড়
বিশেষ বিসিএস চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় সুযোগ। বিশেষ করে সদ্য এমবিবিএস পাস করা কিংবা ইন্টার্নশিপরত চিকিৎসকদের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্যাডার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেড় থেকে দুই মাসে ক্যাডার হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। এই সময়টুকুতে কোন বিষয় কতটুকু পড়তে হবে, কোন প্রশ্নে কত সময় দিতে হবে এবং পরীক্ষার হলে কীভাবে কৌশল অবলম্বন করতে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকলে প্রস্তুতিকে অনেক বেশি কার্যকর করা সম্ভব।
সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারলে পাঁচ হাজার পদের মধ্য থেকে একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার পদ অর্জন করা সম্ভব। তাই লক্ষ্য শুধু প্রিলিমিনারি পাস নয়; লক্ষ্য হওয়া উচিত চূড়ান্তভাবে ক্যাডার হওয়া। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ভবিষ্যৎ কর্মকর্তাদের জন্য রইল শুভকামনা।
লেখক: ডা. শাহজিয়া শাহরিন আনিকা, এমবিবিএস (শসোমেক), বিসিএস (স্বাস্থ্য), সহকারী সার্জন।