নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
দেশের প্রবীণ নাগরিকদের বোঝা হিসেবে নয়, মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ বা এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ ষাটোর্ধ্ব। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে ২০ শতাংশের বেশি বা প্রায় পাঁচ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তাই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ভাতা চালু রয়েছে। তবে এসব ভাতা যথেষ্ট নয়। সব বয়স্ক মানুষ যাতে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন, সে জন্য ভাতার পরিমাণ ও আওতা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু গত ২৫ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে গড় আয়ু ৭৪ দশমিক ৯ বছর। ভবিষ্যতে তা প্রায় ৮০ বছর বা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘায়ু মানুষের সংখ্যা বাড়াকে শুধু বয়স বৃদ্ধির বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না; তাঁদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়তে কাজ করছে। নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও দীর্ঘায়ু নাগরিক—জীবনচক্রভিত্তিক সব শ্রেণির মানুষের জন্য মানবিক ও সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়তে কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ দিয়ে প্রবীণদের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং প্রবীণদেরও সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এর আগে আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সামনে থেকে নবীন-প্রবীণের মিলনমেলার র্যালিতে অংশ নেন মন্ত্রী। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আগারগাঁও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। ১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ৭ অক্টোবর দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
আলোচনায় প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সামছুল ইসলাম, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইনতেজার রহমান, সহসভাপতি মঞ্জু আরা বেগম, কেন্দ্রীয় সদস্য হায়াতুন্নবী ও প্রবীণ নারী শিক্ষক মোমেনা খাতুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচকরা প্রবীণদের জন্য প্রবীণ অধিদপ্তর গঠন, প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আয়-সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তাঁরা বলেন, বিশেষ করে প্রবীণ নারীরা সম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বেশি বৈষম্যের শিকার। দেশের মোট সম্পদের মাত্র ৭ শতাংশের মালিকানা নারীদের হাতে থাকায় দীর্ঘ জীবন তাঁদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা-উপজেলায় প্রবীণদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।
আলোচনায় প্রবীণদের নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণসংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।