নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুর স্বপ্নে পঞ্চাশ বছর: অর্জন, অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’।
মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে শিশু একাডেমির কার্যক্রম ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে। শিশুদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, আবৃত্তি, গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হয়েছে। এতে ১৪টি ক্রীড়া ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে দেশব্যাপী বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান শিশুদের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশু একাডেমির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারে শিশুশ্রম নিরসন, অপুষ্টি দূরীকরণ, শিশুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।পাশাপাশি শিশুদের সার্বিক কল্যাণে ‘সার্ক শিশু সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাবও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছাঃ আরজু আরা বেগম।