নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারদিকে সবুজের সমারোহ আর স্বচ্ছ পানির লেক—প্রকৃতির এমন অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে ঘুরে আসতে পারেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি লেক থেকে।
চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই লেকের চারপাশ ঘিরে রয়েছে বিশাল পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া পিচঢালা সড়কের দুই পাশে সবুজের সমারোহ মুগ্ধ করে পর্যটকদের। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চোখে পড়ে প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
লেকটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে অবস্থিত। ফলে এর পরিচ্ছন্নতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। লেকের স্বচ্ছ পানিতে ছোট ছোট নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি পাড়ে বসে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। বিকেলের দিকে পানিতে খাবার খুঁজতে থাকা সাদা বকের দৃশ্য লেকের সৌন্দর্যে যোগ করে বাড়তি মাত্রা।
শরৎকালে ভাটিয়ারি লেকের সৌন্দর্য যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। চারপাশের পাহাড়, বিস্তৃত আকাশ আর লেকের পানির অপূর্ব দৃশ্য মনকে ভরিয়ে দেয় নির্মল আনন্দে। দিনের যেকোনো সময় এখানে বেড়ানো যায়। তবে বিকেলের পরিবেশ ও সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
লেকের পাশেই রয়েছে গলফ ক্লাব ও সেনাবাহিনী পরিচালিত গলফ কোর্স। এ ছাড়া ভাটিয়ারির সান পয়েন্ট থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা বা দেশের অন্য যেকোনো স্থান থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় যেতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা খোলা জিপে লেকের কাছে পৌঁছানো যায়। হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘির পাড় এলাকা থেকেও যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।
কোথায় থাকবেন, কী খাবেন
ভাটিয়ারি এলাকায় উন্নত মানের আবাসিক হোটেলের সংখ্যা সীমিত। তবে কাছাকাছি একে খান ও অলংকার মোড় এলাকায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব এলাকায় খাবারের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন মানের রেস্তোরাঁ।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে ভাটিয়ারি লেক হতে পারে ভ্রমণতালিকার অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়, সবুজ আর জলরাশির মেলবন্ধনে সাজানো এই স্থান নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলে প্রশান্তির পরশ দেবে।