দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে ছিলেন ৭০ বছর পেরোনো সাহা বানু। চলাফেরার সামর্থ্য হারিয়ে অসহায় জীবন কাটছিল তাঁর। অবশেষে একটি হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসককে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন এই বৃদ্ধা। তাঁর সেই আবেগঘন মুহূর্ত ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৪ জন অসহায়, দুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন তাঁদের কাছে গিয়ে হুইলচেয়ার তুলে দেন।
হুইলচেয়ার পেয়ে সদর উপজেলার ভাতশালা গ্রামের সাহা বানু বলেন, ‘এইটা আমার মা। এই মায়ের জন্য আমি আজ ম্যালাদিন (দীর্ঘদিন) বিছনায় পইরা থাহার পর একটু কমরডা সোজা কইরা বহার ব্যবস্থা হইল।’
দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকার পর হুইলচেয়ারে বসে কিছুটা স্বস্তিতে চলাফেরা করার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ। তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মানবিক এক মুহূর্তের সৃষ্টি হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিতরণ করা ১৪টি হুইলচেয়ারের মধ্যে ১০টি দিয়েছেন শেরপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। এ ছাড়া তিনটি জেলা প্রশাসন এবং একটি জেলা সমাজসেবা তহবিল থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনা হয়। সেখান থেকে বাছাই করে অসহায়, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এসব হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।
হুইলচেয়ার পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। তাঁদের মতে, চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য এমন সহায়তা দৈনন্দিন জীবনকে কিছুটা সহজ করে তুলবে।
হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহাম্মেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, সমাজসেবক রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, বিএনপি নেতা আউয়াল চৌধুরী ও আবু রায়হান রুপন এবং জামায়াত নেতা আব্দুল বাতেনসহ অনেকে।
মন্তব্য করুন