নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে নিয়ে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে মহাসমাবেশ। শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সমাবেশে গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আইনি ক্ষমতা জোরদারের দাবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত শুনবে সরকার।
মহাসমাবেশ সফল করতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাঃ আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকেরা (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে এই প্রথম দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের কথা সরাসরি শোনার জন্য এমন মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গ্রাম পুলিশ নিজেদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এই কর্মীদের মতামত ও দাবিগুলো সরাসরি শুনতে চান।
মীর শাহে আলম বলেন, গ্রাম পুলিশ আইনি কাঠামোর অধীন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। তাঁদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আইনি ক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের ডিডিএলজিদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরে মহাসমাবেশে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের ডিডিএলজি, সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। এসব কর্মসূচিতে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।