নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে হংকং। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) হংকংয়ের স্কাই সিটি ম্যারিয়ট হোটেলে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে হংকংয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশবিষয়ক মন্ত্রী টিএসই চিন-ওয়ানের (TSE Chin-wan) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির প্রতিটি পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে হংকংয়ের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
পানিদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে দুই পক্ষের অভিজ্ঞতা বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে হংকংয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশবিষয়ক মন্ত্রী টিএসই চিন-ওয়ান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হংকং আগ্রহী। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, হংকংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার’-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা করতে তাঁরা আগ্রহী। এ উদ্যোগ দুই পক্ষের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হংকংয়ের এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। হংকংয়ের প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বৈঠকে হংকংয়ে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুরসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং হংকংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।