নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
শরতের বিদায় আর হেমন্তের আগমনে মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মিলেছে হিমালয়ের অপরূপ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত এই দৃশ্য দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন পর্যটকেরা।
এর আগে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক তেঁতুলিয়ায় এলেও মেঘের কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারেননি। হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল অনেককে। তবে ছুটির আমেজ কাটতেই মেঘমুক্ত আকাশে উঁকি দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সেই পর্বতশৃঙ্গ।
সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। ভোরের আলোয় কখনো লালচে আভা, আবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপালি ও শুভ্র রূপে ধরা দেয় পর্বতশৃঙ্গটি। বিকেলের নরম আলোয় এর সৌন্দর্য পায় ভিন্ন মাত্রা।
বরিশাল থেকে আসা পর্যটক আলিয়া মান্নান বলেন, বাংলাদেশে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন সৌন্দর্য দেখা চমৎকার এক অনুভূতি। সাভার থেকে আসা ফরিদুল ইসলাম জানান, সকালে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন।
রংপুরের অর্ণব গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত তেঁতুলিয়ায় এসেও কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যের দেখা পাননি। এবার তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সামিউজ্জামান জানান, এ অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অনুকূল পরিবেশ থাকতে পারে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টহল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) লোকেশ চন্দ্র দাশ।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন বলেন, চলতি মৌসুমে সোমবারই কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে সুন্দর ও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নভেম্বর মাসজুড়েও পর্যটকেরা এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের তেঁতুলিয়ায় ঘুরে আসার আমন্ত্রণ জানান ইউএনও।