নিজস্ব প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক ||
স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অপরিকল্পিত ব্যয় ও জনতুষ্টিমূলক কাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।তিনি বলেছেন, শুধু অর্থ ব্যয়, বড় বড় হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কিংবা দামি যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং প্রান্তিক মানুষের কাছে নিয়মিত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধপ্রাপ্তির উপায় ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ কিংবা দামি যন্ত্রপাতি কেনার মাধ্যমে এসব রোগের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধমূলক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়াই সেক্টর ওয়াইড প্রোগ্রাম ও অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ করে দেওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরে বিঘ্ন ঘটে।
স্বাস্থ্য খাত পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সদিচ্ছা থাকলেই প্রশাসন পরিচালনা করা যায় না; প্রতিটি সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আগামী ১০ বছরের জন্য একটি টেকসই ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ কাঠামো ও পরিচালনাপদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।