নিজস্ব প্রতিবেদক : স্টাফ রিপোর্টার ||
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও পারিবারিক কলহের মধ্যে বিষপানে গোবিন্দ বিশ্বাস (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে বিষপানের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত গোবিন্দ বিশ্বাস বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রাম ঋষিপাড়ার পরিমল বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। তিনি এক কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ নিয়ে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যান গোবিন্দ। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর তাঁর কাজের অনুমতিপত্রের (আকামা) মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে প্রায় দেড় বছর পর মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন তিনি।
দেশে ফিরে জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি সেলুনে কাজ শুরু করেন গোবিন্দ। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা তাঁকে আর্থিক সংকটে ফেলে। জানা গেছে, এসডিসি নামের একটি এনজিও থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে মোট ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি।
সেলুনে কাজ করে সীমিত আয়ে ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন গোবিন্দ। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও কলহ হতো বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন গোবিন্দ। পরে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের চাপ ও পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবকের বিষপানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিমল বিশ্বাসের পরিবার। গোবিন্দের চার বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থনা বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বজনরা। তিন ভাই-বোনের মধ্যে গোবিন্দই ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।