Advertisement
রবিবার, 11 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ, দুই পাড়ে মানুষের ঢল
News Banner

পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ, ঢাকঢোলের তালে তালে মাঝিদের লড়াই আর নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছিল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের বেঙ্গাড়ী বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদী। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শনিবার সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বহুল প্রতীক্ষিত এ আয়োজন।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলায় অর্ধশতাধিক প্রতিযোগী দল অংশ নেয়। প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে রাখা হয়েছিল এক লাখ টাকার নগদ পুরস্কার। আয়োজনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সংরক্ষণে তাঁর পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নৌকা বাইচ ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ঢোল ও কাঁসরের তালে তালে মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টানে নদীর বুকে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ৭০ ও ৭৫ হাত দীর্ঘ ‘বাংলার বাঘ’ ও ‘জনতা এক্সপ্রেস’ নামের দুটি নৌকার প্রতিযোগিতা।

নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও হাফিজুর রহমান নৌকা দুটি ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘বাংলার বাঘ’। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে মাঝিদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার দৃশ্যও উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

নৌকা বাইচের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী চারঘাট ও লালপুর এলাকাতেও। নদীপাড়ে বসা গ্রামীণ মেলায় মৃৎশিল্প, কাঁসা-পিতলের সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মিষ্টি ও শিশুদের খেলনার দোকানে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। পাশাপাশি সার্কাস ও শিশুদের বিভিন্ন রাইড মেলায় যোগ করে বাড়তি আকর্ষণ।

উৎসব দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মুনসুর রহমান বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে গ্রামবাংলার অনেক প্রাচীন সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নদী রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ডাবলু সরকার জানান, এ আয়োজন বাস্তবায়নে বিএনপি নেতা মাসুদ করিম টিপু, জাহিদুল ইসলাম স্বপন ও মাহবুব আলম জনি সহযোগিতা করেছেন।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁদের দায়িত্ব পালনের ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনটি শেষ হয়েছে।

পদ্মার বুকে বৈঠার ছন্দ আর নদীপাড়ের গ্রামীণ মেলার প্রাণচাঞ্চল্য যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের কথা। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক নৌকা বাইচের ঐতিহ্য—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 13 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 391 টি

মন্তব্য করুন