দেশে এখনো অর্ধেকের মতো মানুষ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতার বাইরে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে সময়মতো ও নির্ভুল নিবন্ধন না থাকায় শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও মানবপাচারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।
আজ ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানায়, বর্তমানে দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গড় হার যথাক্রমে ৫০ ও ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে।
প্রজ্ঞার মতে, সঠিক ও নির্ভুল জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শুধু নাগরিক অধিকার সুরক্ষার ভিত্তি নয়; এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ন্যায়সংগত বাজেট বণ্টন এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসন নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সময়মতো জন্ম নিবন্ধন না থাকায় শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে মৃত্যু নিবন্ধন না থাকায় উত্তরাধিকার নির্ধারণ ও সম্পত্তি বণ্টনে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে স্বজনদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আশঙ্কাও বাড়ছে।
বিশেষ করে গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বস্তি এলাকায় মৃত্যু নিবন্ধনের হার তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রজ্ঞা বলছে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা এ লক্ষ্য অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও নির্ভুল করতে পরিবারের ওপর একক দায়িত্ব না রেখে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে এভাবে স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুল নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এতে তথ্যের বিকৃতি কমার পাশাপাশি ভুয়া ও ভুল নিবন্ধনের সুযোগও কমবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। দ্রুততর হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৬.৯ অর্জনের পথ, যেখানে সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞার সমন্বয়কারী মাশিয়াত আবেদিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘সুশাসন নিশ্চিত করার প্রথম শর্তই হলো নাগরিকদের নির্ভুল ও সার্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।’
প্রজ্ঞার মতে, নাগরিকদের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থাকে সহজ, নির্ভুল ও সর্বজনীন করা জরুরি।
মন্তব্য করুন