Advertisement
রবিবার, 11 অক্টোবর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

মুক্তিযোদ্ধার ভাতার দাবিতে আদালতে দ্বিতীয় স্ত্রী, প্রথম স্ত্রীর অস্বীকার

মুক্তিযোদ্ধার ভাতার দাবিতে আদালতে দ্বিতীয় স্ত্রী, প্রথম স্ত্রীর অস্বীকার
News Banner

শেরপুরের নকলায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের সম্মানী ভাতার অংশ ও ওয়ারিশ সনদ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে নিজের অধিকার দাবি করে আদালতে সাকসেশন মামলা করেছেন মোছা. হামিদা বেগম। তবে তাঁকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছেন মুক্তিযোদ্ধার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাজেদা খাতুন। তাঁর দাবি, হামিদা বেগমের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিয়ে হয়নি।

আদালতে দাখিল করা আবেদনপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম নকলা উপজেলার টালকী ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হামিদা বেগমের দাবি, ১৯৯৭ সালের ৯ জুলাই রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। একই বছরের ১২ এপ্রিল সাইফুল ইসলাম মারা যান।

হামিদা বেগম অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে ও নবজাতক সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে জীবিকার তাগিদে ঢাকার পুরান পল্টন এলাকায় বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। এরপর শেরপুরে এসে বসবাস শুরু করেন।

হামিদা বেগমের দাবি, তাঁর স্বামীর মাসিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা। এর অর্ধেক, অর্থাৎ মাসে ১০ হাজার টাকা পাওয়ার দাবিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকা জমা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীর আপত্তির কারণে ভাতার অর্থ তুলতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রথম স্ত্রীকে অনুরোধ করেও সাড়া পাননি বলে জানান হামিদা।

ওয়ারিশ সনদ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য

ওয়ারিশ সনদ নিয়েও রয়েছে বিরোধ। হামিদার অভিযোগ, টালকী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম বদিউজ্জামান বদি তাঁর নাম উল্লেখ না করে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানসহ সাতজনের নামে ওয়ারিশ সনদ দিয়েছিলেন। ওই সনদে হামিদার ছেলে মো. সোহাগ মিয়ার নাম ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২০ জুন টালকী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন বুলবুল প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানদের ছয়জনের পাশাপাশি হামিদা বেগম ও তাঁর ছেলে সোহাগ মিয়াসহ মোট আটজনের নাম উল্লেখ করে ওয়ারিশ সনদ দেন।

‘তারাও আমাদের মতো ওয়ারিশ’

মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের প্রথম পক্ষের বড় ছেলে মো. সোহেল রানা বলেন, ‘হামিদা বেগম আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সোহাগ মিয়া আমার সৎ ভাই। আমরা যেমন ওয়ারিশ, তারাও তেমন ওয়ারিশ। জমিজমা ভাগ করার সময় সোহাগের অংশ রেখেই ভাগ করেছি।’

তবে সাইফুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাজেদা খাতুন এ দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর একটি গানের দল ছিল। গানবাজনার সূত্রে তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রী তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

মাজেদা খাতুনের ভাষ্য, হামিদা বেগম তাঁদের বাড়িতে থেকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে গানের দলে কাজ করতেন। কিন্তু তাঁর স্বামী হামিদাকে বিয়ে করেননি। বড় ছেলেকে মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ভাতার টাকা না দেওয়ার ক্ষোভ থেকে হামিদা বেগম তাঁর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভাতার অংশ পাওয়ার জন্য ভুয়া কাবিননামা ও ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা জানা যায়নি।

চেয়ারম্যানের বক্তব্য

টালকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন বুলবুল বলেন, ‘হামিদা বেগম মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। এ তথ্য আমি অনেক আগে থেকেই জানি। অন্যের বাসায় কাজ করে এই নারী সংসার চালান। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করেই তাঁদের ওয়ারিশ সনদ দিয়েছি।’

নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ মো. খোরশেদুর রহমান বলেন, ‘মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম আমার প্রতিবেশী। হামিদা বেগম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাঁদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমিও চাই, অসহায় এই পরিবারটি তাদের অধিকার ফিরে পাক।’

এ ঘটনায় হামিদা বেগমের দাবি ও মাজেদা খাতুনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ভাতার অর্থের অধিকার এবং বিয়ের বৈধতা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকলে মামলার নিষ্পত্তি ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই এ বিরোধের আইনি সমাধান হতে পারে।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 53 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 391 টি

মন্তব্য করুন