ময়মনসিংহ রেঞ্জের আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ময়মনসিংহ রেঞ্জাধীন সব জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।
সভায় বিভিন্ন খাতের মামলা ও অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ক্রাইম এগেইনস্ট প্রপার্টি, মানবপাচার, মানিলন্ডারিং, সাইবার স্পেসে অনলাইন জুয়া ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিআইজি। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সার্কেল কর্মকর্তাদের থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি সুন্দর ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পুলিশকে জনগণের আস্থার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং পূজামণ্ডপসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ডিআইজি।
পূজা উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গাপূজাকে সার্বজনীন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
শ্রেষ্ঠদের পুরস্কার:
সভায় অভিন্ন মানদণ্ডের আলোকে আগস্ট মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান ও উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠদের পুরস্কৃত করা হয়।
শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জন্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
শ্রেষ্ঠ সার্কেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর সার্কেল। এ ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান পুরস্কার গ্রহণ করেন।
শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) শফিকুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার।
এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন দুর্গাপুর থানার এসআই (নিঃ) মো. মহিবুর রহমান এবং শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার এএসআই (নিঃ) মো. শাহ আলম।
এদিকে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তার এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. আসাদুজ্জামান ও আলী আকবর এবং জামালপুর সদর থানার এসআই (নিঃ) মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সভায় ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবু বকর সিদ্দীক, পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন তালুকদার, নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন, শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার ও ডিআইজির স্টাফ অফিসার মো. পারভেজ আলমসহ রেঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সিভিল স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রেঞ্জাধীন জেলাগুলোর ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা ও সার্কেল কর্মকর্তারা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।
মন্তব্য করুন