Advertisement
শুক্রবার, 06 নভেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

৭ নভেম্বর: জাতীয় সংহতি ও শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রদর্শন

৭ নভেম্বর: জাতীয় সংহতি ও শহীদ জিয়ার রাষ্ট্রদর্শন
News Banner

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সংহতির ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। সেদিন সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। লেখক মাহ্‌দী আমিনের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর: জাতীয় সংহতি, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও শহীদ জিয়ার কালজয়ী রাষ্ট্রদর্শন’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা তুলে ধরেন।

নিবন্ধে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ইতিহাসের কিছু দিন কেবল রাজনৈতিক ঘটনা কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তেমনই একটি দিন। তাঁর মতে, সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। এই ঘটনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে।

জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকটের মধ্যে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। পরে জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন তিনি।

মাহ্‌দী আমিনের ভাষ্য, জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা ছিল গভীর। সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনায়।

জাতীয় ঐক্য ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ—এমনটাই উল্লেখ করেছেন মাহ্‌দী আমিন। তাঁর মতে, এই দর্শনের মাধ্যমে পাহাড় ও সমতল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, মত ও পথ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে একই জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

লেখক বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কার, সুশাসন ও তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৃষিতে অবদান

নিবন্ধে জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। মাহ্‌দী আমিন বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ এবং বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের নেওয়া নীতিগত উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে।

কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি, সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সহজ শর্তে সার ও বীজ সরবরাহ, কৃষিঋণ এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতায়ন ও গ্রামীণ উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারী উন্নয়ন

শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা নিবন্ধে তুলে ধরেছেন মাহ্‌দী আমিন। তাঁর মতে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নারী ও যুবকদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু ছিল উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

এ ছাড়া শিশু একাডেমি, শিশু পার্ক, একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো প্রতিষ্ঠান ও সম্মাননা প্রবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিকাশে ভূমিকা রাখা হয় বলে উল্লেখ করেন লেখক।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন বলেন, জিয়াউর রহমান ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, ওআইসিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা প্রতিষ্ঠায় তাঁর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সার্ক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখার পেছনেও তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা

তাঁর সরকারের সময়ে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম চালু এবং নারী ক্ষমতায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমতা, মানবিক মর্যাদা, স্বনির্ভরতা ও নাগরিক সুবিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিবন্ধের শেষাংশে মাহ্‌দী আমিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও ৭ নভেম্বরের জাতীয় সংহতির চেতনা মানুষের হৃদয়ে জাগরূক রয়েছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

বিভেদ ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

লেখক: মাহ্‌দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

 

 

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 23 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 585 টি

মন্তব্য করুন