Advertisement
শুক্রবার, 11 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র
News Banner

পাহাড়, বনানী, ঝরনা, টিলা আর লেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর শেরপুরের গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। শীতের মৌসুমে ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গারো পাহাড়ঘেরা এই পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসেন প্রকৃতির এই অপরূপ লীলাভূমিতে।

দেশের উত্তর সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা এ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে গারো পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য। পাহাড়, নদী, বন আর সবুজের সমারোহে শেরপুর হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় এক গন্তব্য।

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগ ও উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এটি ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই গজনী পিকনিক স্পট হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত। পরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হয় সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। বর্তমানে প্রায় ২৭০ বিঘা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পর্যটনকেন্দ্রটি পেয়েছে নতুন মাত্রা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে নানা আয়োজন। পাহাড়, বনানী, টিলা, ঝরনা ও লেকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাসমান সেতু, ওয়াটার কিংডম, ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কার ও জিপলাইনিংয়ের মতো আকর্ষণীয় রাইড। রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কও।

পর্যটক খলিলুর রহমান বলেন, “পাহাড়, বনানী, ঝরনা, টিলা, লেক ও হ্রদের প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম সৌন্দর্য মিলিয়ে এখানে অন্যরকম প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই শীত এলেই গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসি।”

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসা পর্যটক সোনিয়া আক্তার বলেন, “পর্যটন কেন্দ্রটি আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাসমান সেতু ও লেকের পাশে সুবিশাল ওয়াটার কিংডম। এ ছাড়া ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কার, জিপলাইনিং, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক আমাদের মুগ্ধ করেছে।”

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক তামিম হোসেন বলেন, “এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি কেনাকাটারও সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দোকানে শিশুদের খেলনা, নারীদের প্রসাধনী, শাড়ি-কাপড়সহ ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী পাওয়া যায়।”

শুধু বিনোদন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। ফলে শীতের মৌসুমে বাড়ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততাও।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, “সারা দেশের পর্যটকদের কাছে গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে নতুন নতুন রাইড চালু করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। শিগগিরই পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানে একটি মোটেল নির্মাণ করা হবে।”

প্রকৃতির সান্নিধ্য, পাহাড়ের মায়া আর আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে গজনী অবকাশ এখন শুধু শেরপুর নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে হয়ে উঠছে আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য। শীতের মৌসুমে পর্যটকদের পদচারণায় তাই প্রাণ ফিরে পায় গারো পাহাড়ের এই অপরূপ লীলাভূমি।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 5 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ নিউজ

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 10 টি

মন্তব্য করুন