শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা গরু রাখার অভিযোগে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ওই বাড়ির খামারের শেড থেকে সাতটি গরু উদ্ধার করা হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে গরুগুলো প্রাথমিকভাবে ভারতীয় বলে দাবি করা হলেও স্থানীয় বাজার থেকে কেনার রসিদ দেখানোর পর গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে গরুগুলো জব্দ করতে গেলে বিজিবি সদস্যদের বাধা দেওয়া এবং মারমুখী আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের স্বজন ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ১ নম্বর সিংগাবর্না ইউনিয়নের মাটিভাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে প্রবেশের খবর পায় কর্ণঝুড়া বিজিবি ক্যাম্প। গরুগুলোর পিছু নিয়ে ধরার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে গরুগুলো মাটিভাটা এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপ্লবের খামারের শেডে রাখা হয়েছে বলে খবর পায় বিজিবি।
এরপর কর্ণঝুড়া বিজিবি বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে জানানো হলে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
অভিযানে বিপ্লবের বাড়ির খামারের শেডে সাতটি গরু পাওয়া যায়। বিজিবির পক্ষ থেকে গরুগুলোকে প্রাথমিকভাবে ভারতীয় গরু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এ সময় ইউএনও গরুগুলো জব্দ করে থানায় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিজিবির অভিযোগ, গরু জব্দের সময় বিপ্লবের স্বজন ও অনুসারীরা তাদের কাজে বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলেও দাবি করেছে বিজিবি।
অন্যদিকে বিপ্লবের স্বজনদের দাবি, গরুগুলো ভারত থেকে চোরাই পথে আনা হয়নি। স্থানীয় বাজার থেকে বৈধভাবে গরুগুলো কেনা হয়েছে এবং এর পক্ষে তাদের কাছে কেনার রসিদ রয়েছে। পরে তারা ইউএনওকে ওই রসিদ দেখান।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গরুগুলো দেখে বিজিবির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে সেগুলো জব্দ করে থানার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলাম। পরে বিপ্লবের অনুসারীরা গরুগুলো নিজেদের বলে দাবি করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনার স্লিপ দেখান। সে অনুযায়ী আমরা গরুগুলো ছেড়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে বিজিবিকে গরুর গোয়ালে যেতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে জেনেছি। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া বা মব সৃষ্টির বিষয়ে বিজিবি চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।’
কর্ণঝুড়া বিজিবি বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ফুল মিয়া বলেন, ‘সকালে আমরা গরুগুলোর বিষয়ে সংবাদ পাই। তাদের ধাওয়া করে ধরতে পারিনি। পরে জানতে পারি, গরু গুলো বিপ্লবের খামারের শেডে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে কথা বলি। পরে ইউএনও ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। গরু গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ভারতীয় বলে তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। ইউএনও গরু গুলো জব্দের নির্দেশ দেন।’
তিনি বলেন, ‘গরু আটক করতে গেলে বিপ্লবের অনুসারীরা ব্যাপকভাবে বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। পরে তারা স্থানীয় বাজার থেকে গরু কেনার রসিদ দেখান। আমাদের কাছে গরুগুলো ভারতীয়—এমন শক্ত কোনো প্রমাণ না থাকায় ইউএনওর নির্দেশে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কাজে বাধা ও মারমুখী আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, বিপ্লব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মাদক, গরু ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিপ্লবের স্বজনরা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মাহবুবুর রহমান বিপ্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন