পিৎজার নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের কাছেই জনপ্রিয় এই ইতালিয়ান খাবার। চিকেন, বারবিকিউ, চিজসহ নানা স্বাদের পিৎজা এখন সহজেই পাওয়া যায়।
তবে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের অনেকেই পিৎজা এড়িয়ে চলেন। কারণ সাধারণত পিৎজার বেসে ময়দা, সঙ্গে চিজ ও বিভিন্ন ধরনের টপিং থাকে। এর সঙ্গে সফট ড্রিংক বা বাড়তি চিজ যোগ হলে ক্যালরির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কীভাবে এবং কতটা পিৎজা খাচ্ছেন, সেদিকে একটু সচেতন হলেই মাঝে মাঝে উপভোগ করতে পারেন প্রিয় এই খাবার।
পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংক নয় পিৎজার সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে চিনিযুক্ত সফট ড্রিংক এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব পানীয় থেকে খাবারের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে যোগ হতে পারে।
এর পরিবর্তে পানি, সোডা ওয়াটার বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নিতে পারেন। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি কমবে।
পিৎজার সঙ্গে রাখুন সালাদ শুধু পিৎজা খেলে অনেকেরই একের পর এক স্লাইস খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই পিৎজার সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ রাখতে পারেন।
শসা, টমেটো, লেটুস, গাজরসহ বিভিন্ন সবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করা যায়। চাইলে এর সঙ্গে গ্রিলড চিকেন বা ডিমের মতো প্রোটিনও যোগ করতে পারেন। ফাইবার ও প্রোটিন তুলনামূলক দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত পিৎজা খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
তবে সালাদে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, ক্রিমি ড্রেসিং বা চিজ ব্যবহার করলে উল্টো ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে। তাই ড্রেসিংয়ের পরিমাণও খেয়াল রাখা জরুরি। বাড়তি চিজ থেকে দূরে থাকুন পিৎজার স্বাদ বাড়াতে অনেকেই অতিরিক্ত চিজ পছন্দ করেন। কেউ কেউ অর্ডারের সময় বাড়তি চিজও যোগ করেন। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।
পিৎজায় সাধারণত প্রয়োজনীয় পরিমাণ চিজ এমনিতেই থাকে। তাই বাড়তি চিজ না নিয়ে বেশি সবজি বা হালকা টপিং বেছে নিতে পারেন। চিকেন বা অন্য কোনো প্রোটিন টপিং নিলে সেটি কীভাবে রান্না করা হয়েছে, সেদিকেও নজর দিন। অতিরিক্ত তেলে ভাজা টপিংয়ের পরিবর্তে গ্রিলড বা রোস্টেড অপশন বেছে নেওয়া তুলনামূলক ভালো।
কত স্লাইস খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো খাবারের পরিমাণ। ‘আজ পিৎজা খাব’ ভেবে একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলার বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন।
ধীরে ধীরে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর কখন পরিতৃপ্ত হচ্ছে, তা বুঝতে সুবিধা হবে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
শুধু পিৎজাকে দোষ দিলে চলবে না
মনে রাখতে হবে, কোনো একটি খাবার একাই ওজন বাড়িয়ে দেয় বা কমিয়ে দেয় না। দিনের মোট খাবার, মোট ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুর ওপরই ওজনের পরিবর্তন নির্ভর করে।
তাই ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বলে পিৎজা চিরতরে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝে মাঝে পছন্দের এই খাবার খেতে পারেন, তবে পরিমাণ বুঝে এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, তা বিবেচনায় রেখে। পছন্দের খাবারকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখার বেশি বাস্তবসম্মত উপায়।
মন্তব্য করুন