বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের ‘পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লিভার সেন্টার’-এ প্রতিবছর ১০ জন বাংলাদেশি রোগীর বিনা মূল্যে লিভার প্রতিস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসাসেবা বিনিময় ও মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনেও যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা উঠে আসে। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে টেনিস বলসহ বিভিন্ন ধরনের বল ও ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। দুই দেশের ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহ জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সঙ্গে পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসি (এনএসপিপি) এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির (বিসিএসএএ) সঙ্গে পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস একাডেমির (সিসিএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে তারা আগ্রহী।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। আরও ৩৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ইন্টার উইং স্কলারশিপ প্রোগ্রামের কথা স্মরণ করেন উপদেষ্টা।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন চা শুল্কমুক্ত আমদানির কোটা রয়েছে পাকিস্তানের। দেশটির বাজারে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আনারস ও চিংড়ি রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ওষুধশিল্প, পর্যটন, পাটশিল্প, শিক্ষা ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচনায় আসে।
হাইকমিশনার বলেন, ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন