বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ওয়ানডে সংস্করণে নিগার সুলতানা জ্যোতি অধিনায়ক থাকলেও টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এত দিন দুই সংস্করণেই একই অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। এবার প্রথমবারের মতো দুই সংস্করণে আলাদা অধিনায়কের পথে হাঁটল বিসিবি। তবে নেতৃত্বে এই পরিবর্তন দলের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে না বোর্ড।
বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান ও পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগার সুলতানা। ফলে এই সংস্করণে নতুন অধিনায়ক নিয়োগের প্রয়োজন হয়। তবে ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্যোতি।
গত মাসে এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিগার। এশিয়ান গেমসের পর এই সংস্করণে আর অধিনায়কত্ব করতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এশিয়ান গেমসেও প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর দেশে ফিরে নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে বিসিবির সঙ্গে আবারও আলোচনা করেন জ্যোতি। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতায় টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি।
জ্যোতির স্থলাভিষিক্ত নাহিদা ২০২৩ সাল থেকে দুই সংস্করণেই দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রস্তুতি বিবেচনায় তাঁকেই নতুন দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করেছে বিসিবি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় নাহিদাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে দলের প্রয়োজনে নাহিদাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে জ্যোতি ও নাহিদা—দুজনের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে নাহিদার সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ আইসিসি নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফি। আগামী ১২ নভেম্বর থাইল্যান্ডে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান।
এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক হিসেবে নাহিদার নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা শুরু হবে।
মন্তব্য করুন