বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। জরাজীর্ণ ঘরে রাত কাটত দুশ্চিন্তায়। অভাবের সংসারে ঘর মেরামত করার সামর্থ্যও ছিল না বিধবা আকলিমা বেগমের। তাঁর দুরবস্থার কথা তুলে ধরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এবার নতুন ঘর পেয়েছেন তিনি। শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে নির্মিত ঘরটি পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে তাঁর জীবনে।
আকলিমা বেগম শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর স্বামী আব্দুস সামাদ মারা যান। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটছে আকলিমার। বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করার সামর্থ্য নেই তাঁর। ফলে অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় তাঁকে।
আকলিমার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। তাঁর মেয়ে আজমিনাও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছেন। স্বামী পরিত্যক্তা আজমিনা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মা-মেয়ের সংসার চালান। সংসারের খরচ জোগানোর পাশাপাশি অসুস্থ মায়ের দেখাশোনাও করতে হয় তাঁকে। সীমিত আয়ে সবকিছু সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।
এ অবস্থায় জরাজীর্ণ ঘরটিই ছিল মা-মেয়ের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু বৃষ্টি হলেই সেই আশ্রয় হয়ে উঠত দুর্ভোগের কারণ। ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ায় ঘরের ভেতরে হাঁড়ি-পাতিল ও বালতি রেখে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করতেন তাঁরা। অথচ নতুন ঘর নির্মাণ কিংবা পুরোনো ঘর সংস্কারের মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁদের।
আকলিমা বেগমের এমন দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের। পরে তিনি আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতিমধ্যে ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
নতুন ঘর পেয়ে খুশি আকলিমা বেগম। তাঁর কাছে এই ঘর শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদে থাকার নতুন অবলম্বন। বৃষ্টির দিনে ঘরের ভেতর পানি পড়ার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় এখন স্বস্তি অনুভব করছেন তিনি।
আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমার ঘরটি ভেঙে গিয়েছিল। বৃষ্টি হলে খুব কষ্ট হতো। ঘরের ভেতর পানি পড়ত। নতুন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। জেলা প্রশাসক আমার জন্য যে ব্যবস্থা করেছেন, তা কোনো দিন ভুলব না। আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা দান করেন।’
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের যেসব মানুষ অর্থের অভাবে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আকলিমা বেগমের দুরবস্থার কথা জানার পর তাঁর মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা এবং তাঁদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারাই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।’
আকলিমা বেগমের জীবনের সব সংকট হয়তো নতুন ঘরে দূর হবে না। তবে নিরাপদ আশ্রয় তাঁর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমাবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন আকলিমা।
মন্তব্য করুন