শেরপুরে পাখি শিকারের দায়ে নেজামুল (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় শিকারের ফাঁদ থেকে ১৮টি পাখি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ও কামারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় কামারিয়া ইউনিয়নের আলীনাপাড়া গ্রাম থেকে নেজামুলকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।
অভিযানকালে পাখি শিকারের আটটি হালাসহ ১৪টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১২টি বক ও ছয়টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ১৮টি পাখি প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।
অভিযানে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, স্বেচ্ছাসেবক মো. রফিক মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত নেজামুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাখি শিকার বন্ধ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া পাখির সুরক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন