Advertisement
বুধবার, 16 সেপ্টেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
শেরপুর পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেরপুরে ৫ দফা দাবিতে বস্ত্র দোকান কর্মচারীদের মানববন্ধন-বিক্ষোভ ঘুমন্ত মাথায় হাতুড়ির আঘাত: গুরুতর আহত স্বামী আইনের ফাঁকফোকরে থামছে না অবৈধ সুদের কারবার ‘অকাঠা নৌকার সাজন বেশি’ -এস.কে. সাত্তারের নতুন কবিতা ‘এআই গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে দিলে আমি রোমান্টিক উপন্যাস লিখব’: গণিতের ‘নোবেল’ বিজয়ীর রসিকতা শর্তভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে মেধা: ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখে শৈশব পিৎজা খাবেন, ওজনও থাকবে নিয়ন্ত্রণে—জেনে নিন সহজ কৌশল শিশুদের মতো রং করুন, কমতে পারে মানসিক চাপ তাল দিয়ে ঘরেই তৈরি করুন সুস্বাদু ভাপা পুলি

নগর স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নগর স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
News Banner

দেশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় এনে নতুন করে ঢেলে সাজানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরাম আয়োজিত ‘টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সে সময় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় অংশের মনোযোগ ছিল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দিকে। তবে বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে নগর স্বাস্থ্যসেবাকে আর আলাদা বা প্রান্তিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আজকের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ছি না, আগামী দিনের কথাও ভাবছি। তাই নগর স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ড. এম এ মুহিত বলেন, এতদিন নগর স্বাস্থ্যসেবা মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এ ব্যবস্থার নমনীয়তা ও ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে এখন সরকারের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ, সমন্বিত ও টেকসই কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ সেবা পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে।

নতুন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিদ্যমান প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের একই কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মীর হাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডিজিটাল অ্যাপ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে পারবেন।

নগরের নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

পাশাপাশি নগরের ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে ইউনিট নির্ধারণ করে নগর স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানান তিনি।

নগর স্বাস্থ্যসেবার নতুন রূপরেখা বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার তাগিদ দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, এর মাধ্যমে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য জনবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সিএসও ফোরামের আহ্বায়ক ডা. সায়েদ রুবাইয়েতের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত রেহানা।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 12 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 75 টি

মন্তব্য করুন