Advertisement
বৃহস্পতিবার, 05 নভেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
শেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হৃদরোগীদের পুনর্বাসনে দেশে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক শান্তিতে সংলাপের আহ্বান এআই উদ্ভাবনে সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে চীনের সিআরসিসির সঙ্গে চুক্তি গণশুনানিতে ১২৪ জনের আবেদন, ৯৯ জনকে আর্থিক সহায়তা বাগড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক নকলায় ৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু

ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ

ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ
News Banner

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

সভায় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হটস্পটগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।

অবৈধভাবে ধরা ইলিশ বাজারজাত বন্ধে বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর কথাও বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে দেওয়া সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।

ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে—এটিকে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমান বাহিনী, নৌ পুলিশ ও বিজিবির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 49 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 573 টি

মন্তব্য করুন