Advertisement
বৃহস্পতিবার, 05 নভেম্বর 2026
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
শেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হৃদরোগীদের পুনর্বাসনে দেশে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক শান্তিতে সংলাপের আহ্বান এআই উদ্ভাবনে সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি অবকাঠামো ও শিল্প খাতে বিনিয়োগে চীনের সিআরসিসির সঙ্গে চুক্তি গণশুনানিতে ১২৪ জনের আবেদন, ৯৯ জনকে আর্থিক সহায়তা বাগড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক নকলায় ৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু

এআই উদ্ভাবনে সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

এআই উদ্ভাবনে সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি
News Banner

বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং এ প্রযুক্তির প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনেও বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এ জন্য সরকার, ব্যবসায়ী, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার না হয়ে বাংলাদেশকে সক্রিয় অংশীদার হতে হবে। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রযুক্তিতে দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশেরও এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। ব্যবসায়ী সমাজকে এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিতি অর্জন করেছে। একইভাবে দেশের তরুণরা যথাযথ দক্ষতা নিয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারলে বিশ্বে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি তৈরি করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

তবে এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি অংশ শিক্ষিত বেকার। এ অবস্থায় এআই নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার ইতোমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এআই খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম নির্ধারক। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআইয়ের অবদান প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে এআইয়ের কৌশলগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এআইবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় স্টার্টআপ ও গবেষকদের বিশেষ গবেষণা অনুদান, ইনকিউবেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এআই, মেশিন লার্নিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান বিজ্ঞানমন্ত্রী। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশকে এআই ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরির আহ্বান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের নীতি ও রূপরেখা অনুযায়ী এআইয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় তরুণ সমাজ, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের এআই, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং মেশিন লার্নিংয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। উদ্যোক্তারা যাতে অপ্রয়োজনীয় বাধা ও হয়রানি ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য অবাধ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় উদ্ভাবনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সমন্বিত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (এসটিআই) কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিকসের মতো অগ্রসর প্রযুক্তির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।

এ জন্য এসটিইএম শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণার ফলাফল বাণিজ্যিক প্রয়োগে নেওয়া, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতে উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ এবং অগ্রসর প্রযুক্তিতে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সচিব আরও বলেন, গত জুলাইয়ে ‘বিইএআর সামিট’ ও সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং সেপ্টেম্বরে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ আয়োজনের মাধ্যমে উদ্ভাবক, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের একই প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার, তথ্য সুরক্ষা এবং দেশের নিজস্ব চাহিদা পূরণে জাতীয় এআই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের কার্যকর অংশীদারত্ব ছাড়া এ রূপান্তর সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসি), বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেডের সিইও ও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উদ্ভাবক, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে সামিট উপলক্ষে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামিটে দেশি-বিদেশি ১৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকরা তাঁদের এআইভিত্তিক প্রকল্প তুলে ধরেন।

এই সংবাদটি পঠিত হয়েছে: 3 বার

নিউজ ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

এই সাংবাদিকের মোট খবর: 573 টি

মন্তব্য করুন