রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। চিকিৎসা শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহল থেকে চাপ এলেও মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে—এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।’
দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টনের বিষয়টি তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত।অন্যদিকে বাকি সাতটি বিভাগে রয়েছে স্পষ্ট ভারসাম্যহীনতা। পরিকল্পিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। সংসদ কিংবা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তোলার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
চিকিৎসা শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) মানদণ্ড অনুসরণ করে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সংকুচিত হবে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা জরুরি।
বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পড়তে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন