বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। আসন্ন এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টিতে আর নেতৃত্ব দিতে চান না জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ই-মেইল করেছেন ২৯ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। তবে জ্যোতির পাঠানো ই-মেইলটি তিনি নিজে এখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন।
রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমি এখনো মেইল দেখিনি। আমাদের উইমেন্সের ম্যানেজার জানিয়েছে, ওর (জ্যোতি) মেইলে এমন কিছু আছে। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। আমাকে দেখতে হবে।’
জানা গেছে, ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। মঙ্গলবার জাপান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে বিসিবিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি।
তবে টি-টোয়েন্টি থেকে নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ নারী দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে চান জ্যোতি। তার পরিবর্তে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক হিসেবে নাহিদা আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন সোবহানা মোস্তারি।
২০২২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জ্যোতি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ১৩২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ৮০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন।
অধিনায়ক হিসেবে ৮০ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৩টি ফিফটির সাহায্যে জ্যোতির সংগ্রহ ১ হাজার ৮৫১ রান। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার মোট রান ২ হাজার ৭০৯। ১৩টি অর্ধশতকের পাশাপাশি রয়েছে একটি সেঞ্চুরিও।
জ্যোতির নেতৃত্বে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এই ফরম্যাটে সেটিই ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম জয়। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে এটিই জ্যোতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না এই তারকার। সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারতের কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ওই টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৫৬ রান। সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে।
নেতৃত্ব নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জ্যোতি। তার বিরুদ্ধে দলে সিন্ডিকেট তৈরি এবং নিজের বলয়ের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতির কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এশিয়ান গেমসের পর নারী দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে জ্যোতির সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছিল বিসিবি। তবে সেই আলোচনার আগেই টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা বোর্ডকে জানালেন তিনি।
এখন জ্যোতির সিদ্ধান্তের পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ নারী দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন