চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৫৩১ গ্রাম স্বর্ণ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর মধ্যে ব্যাগেজে পেস্ট আকারে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণ গলানোর পর পাওয়া যায় ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেটের একটি স্বর্ণপিণ্ড। এছাড়া যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১০৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা সালামএয়ারের একটি ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাসকাট থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রী মোহাম্মদ হাসান মুরাদ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের CIID টিম এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বরত অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তার ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে যাত্রীর ব্যাগেজের ভেতর বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পেস্টসদৃশ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বর্ণকারের মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াজাত করলে পেস্ট থেকে ৪২৫ গ্রাম ওজনের ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণপিণ্ড পাওয়া যায়।
এতেই শেষ নয়। দেহ তল্লাশির সময় যাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকে আরও ৩৫ পিস বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এসব অলংকারের মোট ওজন ১০৬ গ্রাম।
পেস্ট থেকে পাওয়া স্বর্ণপিণ্ড ও স্বর্ণালংকারসহ আটক স্বর্ণের মোট ওজন দাঁড়ায় ৫৩১ গ্রাম। কাস্টমস-শুল্ক ও করাদিসহ আটক স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪১ হাজার ৫৫৫ টাকা।
বিশেষ কৌশলে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনায় স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে আর কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, স্বর্ণের উৎস ও গন্তব্য কোথায় এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন