জাতীয় ছাত্রশক্তির শেরপুর জেলা শাখার নবগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতাকর্মীরা। কমিটিতে ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং অছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার অভিযোগ তুলে তাঁরা এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি স্থগিতের দাবি জানিয়ে অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১১টায় শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির শেরপুর জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব সাজ্জাদ হোসাইন আলম।
লিখিত বক্তব্যে সাজ্জাদ হোসাইন আলম অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটিতে ত্যাগী ও নিবেদিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি স্থগিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেরপুর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেন ও সাবেক সমন্বয়ক আরাফাত রহমান তালুকদার।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নতুন কমিটিতে অল্পবয়সী কয়েকজনকে ভুল বুঝিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের কমিটির কার্যক্রমেও সক্রিয়তা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। একটি সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। তাঁদের ভাষ্য, এ সিদ্ধান্তে সংগঠনের শত শত নেতাকর্মীর মনোবল ভেঙে গেছে এবং ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার আগ্রহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় তাঁরা নবগঠিত কমিটি স্থগিতের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির শেরপুর জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মুর্শেদ জিতু। তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন কমিটির বিষয়ে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তা অসত্য। আমরা কমিটির তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র থেকে আজ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
মুর্শেদ জিতু আরও বলেন, ‘আমরা গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করব না। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই রাজনীতি করতে চাই।’
মন্তব্য করুন