যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকির জবাবে ইরান বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কোনো শক্তির অনুমতির প্রয়োজন নেই। আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে তেহরান কখনো পিছপা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বক্তব্যে ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, হুমকি দিয়ে ইরানকে ধ্বংস করা যাবে না। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কিংবা একটি সভ্যতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ক্ষমতা কারও নেই। ইরানের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে না।
তিনি বলেন, ইরানের জনগণ কখনোই হুমকিদাতাদের কাছে নিজেদের স্বাধীনতা কিংবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সমর্পণ করবে না। বারবার হুমকি দেওয়া বা উচ্চকণ্ঠে দাবি তোলার মাধ্যমে বাস্তবতা বদলে ফেলা সম্ভব নয়।
যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে এবং প্রতিটি অকালমৃত্যু একটি পরিবারকে দীর্ঘস্থায়ী শোকের মধ্যে ঠেলে দেয়। এ কারণেই ইরান দায়িত্ববোধ থেকে শান্তির পক্ষে কথা বলে এবং যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করে।
তবে শান্তির আহ্বানকে ইরানের প্রতিরক্ষায় দুর্বলতা বা দ্বিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দেশের জনগণের জীবন, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা ইরানের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে দেশটি কখনো পিছপা হবে না।
ফাতেমেহ মোহাজেরানি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ড রক্ষার দায়িত্ব দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। যারা আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেবে, তাদের বুঝতে হবে—এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও জনগণের দৃঢ় প্রত্যয় বিবেচনায় না নিয়ে দেশটির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হলে তা মৌলিকভাবে ভুল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন