আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রচেষ্টা, অনলাইন থেকে শেখা ও নানা পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের তরুণ রবি তামতা। তাঁর তৈরি এক আসনের উড়ন্ত যান ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’ গত আগস্টে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার বাসিন্দা রবি তামতা মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। প্রকৌশল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ইন্টারনেটের সহায়তা, নিজের প্রচেষ্টা এবং পরিবারের সহযোগিতায় তিনি উড়ন্ত গাড়ি তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরেও আগ্রহ ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা করা সম্ভব।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি পথ থেকেই ভাবনার শুরু
জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখানে বেড়ে ওঠা রবি তামতা পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখেছেন। বিশেষ করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির ভাবনায় আগ্রহী করে তোলে।
২০১৫ সালে উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে নিজের প্রতিষ্ঠান হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তাঁর তৈরি প্রোটোটাইপটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণের উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে। এতে একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে। মাল্টিরোটর ড্রোনের প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই নকশায় রয়েছে হালকা কাঠামো, ককপিট ও স্বচ্ছ ক্যানোপি।
ব্যাটারিচালিত হওয়ায় যানটি পরিচালনায় প্রচলিত বিমানের জ্বালানি বা ইথানলের প্রয়োজন হয় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও পরীক্ষানিরীক্ষায় অর্জিত দক্ষতা
গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনার পর নৈনিতালের একটি ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন তামতা। তাঁর বাবা হরিশ রাম পেশায় একজন মেকানিক।
প্রকৌশল বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষায়িত গবেষণাগারের সুবিধা ছাড়াই অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং বারবার পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে উড়ন্ত যান তৈরির জ্ঞান অর্জন করেন তিনি।
তবে একটি উড়ন্ত যান তৈরি করা এবং সেটিকে নিরাপদে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এর স্থিতিশীলতা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও উড্ডয়নক্ষমতা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন।
আগেও তৈরি করেছেন নানা উদ্ভাবনী যন্ত্র
উড়ন্ত গাড়িই রবি তামতার প্রথম উদ্ভাবন নয়। এর আগে তিনি মোবাইল ফোন চার্জ করার উপযোগী জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচলে সহায়ক স্মার্ট লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম তৈরি করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বন বিভাগের জন্যও একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র তৈরির কথা জানা গেছে।
তাঁর উড়ন্ত গাড়ির সম্ভাব্য ব্যবহার হিসেবে দুর্গম এলাকায় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসাসেবায় দ্রুত পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হলেও যানটি এখনো যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, তা নিশ্চিত নয়। বাস্তবে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
সূত্র: ছবি ও তথ্য ইন্ডিয়া টুডে।
মন্তব্য করুন